ফাউমি মুরগি পালন করে লাভবান হতে চান, তাহলে অবশ্যই ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ মুরগিকে সঠিক খাবার দেওয়ার মাধ্যমেই তাদের ওজন বৃদ্ধি করা যাবে। সঠিক পরিমাণে খাবার দিলে মুরগির ওজন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি দ্রুত সময়ে মুরগি বৃদ্ধি করে বাজারে লাভজনকভাবে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো ফাউমি মুরগির খাবারের তালিকা। বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
ফাওমি মুরগি পালন করে ভালো রকম ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই মুরগির পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর মুরগির জন্য কোন খাদ্যগুলো পুষ্টিকর আমরা আর্টিকেলটিতে তা দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার মাধ্যমে মুরগির ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই যথাসম্ভব খামারে পুষ্টিকর খাবারের মজুদ রাখুন এবং সঠিক সময়ে মুরগিকে খেতে দিন।
ভূমিকা
ফাউমি মুরগি মূলত মিশরীয় জাতের একটি জনপ্রিয় মুরগি, যা দ্রুত বর্ধনশীল ও ডিম উৎপাদনে দক্ষ। এদের সঠিকভাবে লালন-পালন করতে হলে সুষম খাদ্যতালিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিকর খাবার মুরগির সুস্থতা, দ্রুত বৃদ্ধি এবং ডিমের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তবে অনেকেই জানেন না, ফাউমি মুরগির জন্য কোন খাবার উপযুক্ত এবং কীভাবে তাদের সঠিক খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা উচিত।
আরো পড়ুনঃ ফাওমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা
আরো পড়ুনঃ গরুর দুধ বৃদ্ধির ঔষধ
এই আর্টিকেলে আমরা ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, যাতে আপনার মুরগিগুলো সুস্থ থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন দিতে পারে। তাহলে চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ফাউমি মুরগির জন্য একটি আদর্শ খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা ২০২৫
এখন ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যার ফলে আপনারা ফাউমি মুরগিকে সঠিক পরিমাণে খাবার দিতে পারবেন এবং মুরগি দ্রুত বড় হয়ে উঠবে। সাথে মুরগিগুলোর দ্রুত ওজন বেড়ে যাবে। তাই আপনাকে এই খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে। নিম্নে বয়স অনুযায়ী ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা তুলে ধরা হলোঃ
- মুরগির বয়স শূন্য থেকে ছয় সপ্তাহ হলে তাকে স্টার্টার খাবার দিতে হবে।
- আর ফাউমি মুরগির বয়স যদি ৭ থেকে ১৪ সপ্তাহ হয়ে থাকে তাহলে গ্রোয়ার জাতীয় খাবার দিতে হবে।
- আবার মুরগির বয়স ১৫ থেকে ৪৫ সপ্তাহ হয়ে গেলে তাদের লেয়ার ১ খাবার দিতে হবে।
- আর সাধারণত লেয়ার ২ খাবার দেওয়া হয় যখন মুরগির বয়স ৪৫ থেকে ৯৫ সপ্তাহ হয়ে থাকে।
চলুন এখন আমার খাবার তালিকা গুলো বিস্তারিত জেনে আসি।ফাউমি মুরগির খাদ্য তালিকাঃ
স্টার্টার খাবারের ক্ষেত্রে উপাদানের তালিকাঃ
- ভুট্টা থাকবে ৫২ কেজি
- সয়াবিন মিল প্রয়োজন হবে ২৫ কেজি
- রাইচ পালিশ থাকবে ১০ কেজি
- সয়াবিন তেল লাগবে ২০০ গ্রাম
- টক্সিন বাইন্ডার প্রয়োজন হবে ১২৫ গ্রাম
- কোলিন ক্লোরাইড থাকবে ৬০ গ্রাম
- এল-লাইসিন লাগবে ১০০ গ্রাম
- ডিএল- মিথিওনিন প্রয়োজন হবে ১৫০ গ্রাম
- প্রিমিক্স এটিও প্রয়োজন হবে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে ২০০ গ্রাম
- সালমোনেলা কিলার যোগ করতে হবে ৩০০ গ্রাম
- ডিসিপি থাকতে হবে ৩০০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় লবণ থাকবে ৩০০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় ঝিনুক চূর্ণ থাকবে ২ কেজি
- খাদ্য তালিকায় প্রোটিন ৬০% থাকবে ৮ কেজি
- তাহলে মোট তৈরি হয়ে গেল ১০০ কেজি ফাউমি মুরগির স্টার্টার খাদ্য
গ্রোয়ার খাবারের ক্ষেত্রে উপাদানের তালিকাঃ
- ভুট্টা থাকবে ৫৪ কেজি
- সয়াবিন মিল প্রয়োজন হবে ২৪ কেজি
- রাইচ পালিশ থাকবে ১০ কেজি
- সয়াবিন তেল লাগবে ১৫০ গ্রাম
- টক্সিন বাইন্ডার প্রয়োজন হবে ১৩৫ গ্রাম
- কোলিন ক্লোরাইড থাকবে ৫০ গ্রাম
- এল-লাইসিন লাগবে ৯০ গ্রাম
- ডিএল- মিথিওনিন প্রয়োজন হবে ১৩৫ গ্রাম
- প্রিমিক্স এটিও প্রয়োজন হবে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে ২৫০ গ্রাম
- সালমোনেলা কিলার যোগ করতে হবে ২৫০ গ্রাম
- ডিসিপি থাকতে হবে ৩০০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় লবণ থাকবে ২৮০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় ঝিনুক চূর্ণ থাকবে ২.৫ কেজি
- খাদ্য তালিকায় প্রোটিন ৬০% থাকবে ৫ কেজি
- তাহলে মোট তৈরি হয়ে গেল ১০০ কেজি ফাউমি মুরগির গ্রোয়ার খাদ্য তালিকা
লেয়ার ১ খাবারের ক্ষেত্রে উপাদানের তালিকাঃ
- ভুট্টা থাকবে ৫৫ কেজি
- সয়াবিন মিল প্রয়োজন হবে ২২ কেজি
- রাইচ পালিশ থাকবে ৮ কেজি
- সয়াবিন তেল লাগবে ১০০ গ্রাম
- টক্সিন বাইন্ডার প্রয়োজন হবে ১৫০ গ্রাম
- কোলিন ক্লোরাইড থাকবে ৫০ গ্রাম
- এল-লাইসিন লাগবে ৮০ গ্রাম
- ডিএল- মিথিওনিন প্রয়োজন হবে ১৩০ গ্রাম
- প্রিমিক্স এটিও প্রয়োজন হবে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে ৩০০ গ্রাম
- সালমোনেলা কিলার যোগ করতে হবে ৩০০ গ্রাম
- ডিসিপি থাকতে হবে ৫০০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় লবণ থাকবে ২৮০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় ঝিনুক চূর্ণ থাকবে ৮ কেজি
- খাদ্য তালিকায় প্রোটিন ৬০% থাকবে ৪ কেজি
- সোডা থাকতে হবে ৫০ গ্রাম
- তাহলে মোট তৈরি হয়ে গেল ১০০ কেজি ফাউমি মুরগির লেয়ার ১ খাদ্য তালিকা
লেয়ার ২ খাবারের ক্ষেত্রে উপাদানের তালিকাঃ
- ভুট্টা থাকবে ৫৬ কেজি
- সয়াবিন মিল প্রয়োজন হবে ২২ কেজি
- রাইচ পালিশ থাকবে ৭.৫ কেজি
- সয়াবিন তেল লাগবে না
- টক্সিন বাইন্ডার প্রয়োজন হবে ১৫০ গ্রাম
- কোলিন ক্লোরাইড থাকবে ৫০ গ্রাম
- এল-লাইসিন লাগবে ৬০ গ্রাম
- ডিএল- মিথিওনিন প্রয়োজন হবে ১২৫ গ্রাম
- প্রিমিক্স এটিও প্রয়োজন হবে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে ৩০০ গ্রাম
- সালমোনেলা কিলার যোগ করতে হবে ৩২০ গ্রাম
- ডিসিপি থাকতে হবে ৫০০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় লবণ থাকবে ২৮০ গ্রাম
- খাদ্য তালিকায় ঝিনুক চূর্ণ থাকবে ১০ কেজি
- খাদ্য তালিকায় প্রোটিন ৬০% থাকবে ৩ কেজি
- সোডা থাকতে হবে ৭৫ গ্রাম
- তাহলে মোট তৈরি হয়ে গেল ১০০ কেজি ফাউমি মুরগির লেয়ার ২ খাদ্য তালিকা
তাহলে আশা করছি প্রিয় কৃষক ভাইয়েরা আপনারা হয়তো এতক্ষণে ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা গুলো জেনে গেলেন। এবার সেই অনুযায়ী খাবার তৈরি করে মুরগিকে খেতে দিন তাহলে মুরগি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং ওজন বেড়ে যাবে।
ফাউমি মুরগির ডিমের দাম ২০২৫
এক সূত্রে জানা যায় ফাউমি মুরগির ডিমের দাম সাধারণত একটি ডিমের দাম ২৪ টাকা করে। তাহলে যদি এক হালি হয় তাহলে দাম হবে ৯৬ টাকা। এই মুরগির ডিম গুলো আপনারা বিভিন্ন খামারে পেয়ে যাবেন আবার বিভিন্ন দোকানে পেতে পারেন।
তবে আপনি যদি সঠিক দাম জানতে চান তাহলে বাজারে গিয়ে খামারে খোঁজ লাগাতে পারেন। তবে ফাউমি মুরগির ডিমের আনুমানিক ১টি ডিমের দাম ২৪ টাকা।
ফাউমি মুরগির ঔষধের তালিকা ২০২৫
প্রিয় কৃষক ভাইয়েরা আপনারা হয়তো এখন ফাউমি মুরগির ঔষধের তালিকা গুলো জানতে চান। কারণ এই মুরগির কোন রোগ হলে কি কি ওষুধ ব্যবহার করবেন তা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। অর্থাৎ এ মুরগির রোগ প্রতিরোধ করতে কিছু ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন হয় সেগুলো জানতে হবে। চলুন আমরা এবার ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা গুলো জেনে নিই। মুরগির বয়স অনুযায়ী নিম্নে তালিকা দেওয়া হলঃ
- আপনারা প্রথমেই অর্থাৎ প্রথম দিনে ওষুধ হিসেবে লাইসোভিট বা গ্লুকোজ দিতে পারেন।
- এমক্সাসিলিন ওষুধ দিতে হবে ২-৪ দিন টানা।
- ৩ - ৫ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে আইবি+এনডি লাইভ ভ্যাক্সিন
- ১০ - ১২ দিনের মধ্যে ওষুধ দিতে হবে গামবোরো লাইভ ভ্যাক্সিন
- ১২ - ১৪ দিন বয়স হলে দিতে হবে লিভারটনিক ও ভিটামিন
- ১৮ - ২২ দিন বয়স হলে দেওয়া প্রয়োজন গামবোরো লাইভ ভ্যাক্সিন
- ২৪ - ২৬ দিন বয়সের মধ্যে দিতে হবে এনডি লাইভ ভ্যাক্সিন (রানীক্ষেত)
- বয়স ২৪ - ২৬ দিন হলে দেওয়া প্রয়োজন এম্প্রোলিয়াম + সিপ্রো
- বয়স ৩০ দিন হলে দিতে হবে ফাউলপক্স ভ্যাক্সিন
- এছাড়াও বয়স ৩৫ দিন হলে দেওয়া প্রয়োজন কৃমিনাষক ঔষধ
- ৪৫ - ৪৮ এর মধ্যে বয়স হলে দিতে হবে রানীক্ষেত লাইভ ভ্যাক্সিন
- ৫০ দিন বয়স হয়ে গেলে নিয়মিত দিতে হবে প্রোবায়োটিক , ভিটামিন ও লিভারটনিক
ফাউমি মুরগি কত দিনে ডিম দেয়
ফাউমি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত অন্যান্য মুরগির থেকে একটু বেশি। যার ফলে এটি অতি সহজে লালন পালন করা যায়। তবে বর্তমানে এই মুরগি অধিক পালন করা হচ্ছে কারণ এই মুরগি বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে।
আর সেই সুযোগ-সুবিধা যদি ডিম দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে তাহলে এটি বেশ লাভজনক।ফাউমি মুরগি সাধারণত ভালো পরিমাণে বেশি ডিম দিয়ে থাকে। এই মুরগির বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চার বয়স যখন ৪ থেকে ৫ মাস বয়স হয়ে থাকে তখন থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে। এ ক্ষেত্রে মুরগিটি তার ডিম দেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে ৫০% ডিম দিয়ে থাকে।
তবে এই মুরগি সাধারণত ডিম দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। বিশেষ করে এই মুরগির বয়স যখন ছয় মাস এর উপরে হয়ে থাকে তখন থেকে এটি সম্পূর্ণরূপে বেশি বেশি ডিম দিতে থাকে।
এই মুরগির সাধারণত বছরের প্রায় ৮০ পার্সেন্ট ডিম দিয়ে থাকে। অর্থাৎ এই মুরগিটি বছরে প্রায়ই ১৮০ থেকে ২০০ টির মত ডিম দিতে সক্ষম হয়। তাছাড়াও এই ফাউমি মুরগি অন্যান্য মুরগির তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ার কারণে এই মুরগিগুলো তেমন রোগ হয় না।
সহজেই খামারে লালন-পালন করা যায় এবং কম আবদ্ধ এলাকায় অতি সহজেই লালন পালন করা যায়। তাহলে আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন ফাউমি মুরগি কত দিনে ডিম দেয়।
ফাউমি মুরগির বাচ্চা চেনার উপায়
আপনি যদি ফাউমি মুরগির খামার দিয়ে লাভজনক ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই ফাউমি মুরগির বাচ্চাগুলো চিনতে হবে। অর্থাৎ আপনি অরজিনাল বাচ্চা পাচ্ছেন কিনা তা বুঝতেই আপনাকে ফাউমি মুরগির বাচ্চা গুলো চেনা প্রয়োজন। আর এজন্যই আপনাদের অবশ্যই ফাউমি মুরগির বাচ্চা চেনার উপায় ও নিয়ম জানতে হবে। যা আমরা এখন আলোচনা করব।
- এ ধরনের মুরগিগুলো বাচ্চার বড় বড় ঝুটি থাকবে।
- ফাউমি মুরগির চোখ সাধারণত গাঢ রঙের হয়ে থাকে.
- এই মুরগির ঠোঁট সাধারণত বাদামী রঙের হয়।
- তাছাড়াও এই মুরগির পায়ের রঙ ধূসর কালার হয়ে থাকে।
- তাছাড়া ওই মুরগিগুলো সারা গায়ে ছোপ ছোপ কালো দাগ দাগ থাকে।
এছাড়া আরো অনেক ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আপনারা দেখে শুনে কিনতে পারবেন। অবশ্য আপনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ইউটিউবে সার্চ করে দেখতে পারবেন তারা আপনাকে লাইভ দেখিয়ে দিবে। তাছাড়া বিভিন্ন খামারিদের কাছে থেকে দেখে নিবেন।
ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন - FAQs
১. ফাউমি মুরগির জন্য সেরা খাবার কী?
ফাউমি মুরগির জন্য সুষম খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে শস্যজাতীয় খাবার (যেমন ভুট্টা, গম, চালের কুঁড়া), প্রোটিন (যেমন সয়াবিন মিল, মাছের গুঁড়া), এবং ভিটামিন ও খনিজ উপাদান (যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস)।
২. ফাউমি মুরগিকে কি কাঁচা খাবার খাওয়ানো যায়?
হ্যাঁ, কিছু নির্দিষ্ট কাঁচা খাবার যেমন শাকসবজি, ফল এবং রান্না করা ধানের কুঁড়া ফাউমি মুরগির জন্য উপকারী হতে পারে। তবে বাসি বা পচা খাবার খাওয়ানো উচিত নয়।
৩. ফাউমি মুরগিকে কতবার খাবার দেওয়া উচিত?
সাধারণত দিনে ২-৩ বার খাবার দেওয়া উচিত। বাচ্চা মুরগির ক্ষেত্রে দিনে ৪-৫ বার পর্যন্ত খাওয়ানো যেতে পারে।
৪. ফাউমি মুরগির খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম কতটা জরুরি?
ডিম উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ফাউমি মুরগির খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকা অত্যন্ত জরুরি। ক্যালসিয়ামের জন্য তাদের খাবারে চুন, ঝিনুকের গুঁড়া বা ডিমের খোসা মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
৫. ফাউমি মুরগিকে কি শুধু বাজারের ফিড খাওয়ানো যাবে?
হ্যাঁ, বাজারের ফিড দেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবার যেমন শাকসবজি, দানাদার খাদ্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান যুক্ত করলে মুরগির স্বাস্থ্য আরও ভালো থাকবে।
৬. ফাউমি মুরগির জন্য ক্ষতিকর খাবার কী কী?
লবণাক্ত বা বেশি মসলাযুক্ত খাবার, বাসি-পুরনো খাবার, চকোলেট, পেঁয়াজ, রসুন, এবং ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ফাউমি মুরগির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৭. শীত ও গরমকালে ফাউমি মুরগির খাবারে কোনো পার্থক্য আছে কি?
হ্যাঁ, শীতকালে বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার (যেমন ভুট্টা ও গম) দেওয়া ভালো, যাতে মুরগির শরীর গরম থাকে। অন্যদিকে, গরমকালে পানিশূন্যতা রোধে বেশি পরিমাণে পানি ও শাকসবজি খাওয়ানো উচিত।
৮. ফাউমি মুরগির খাবারের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা যায়?
প্রাপ্তবয়স্ক ফাউমি মুরগির জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০০-১২০ গ্রাম খাবার প্রয়োজন হয়। বাচ্চা মুরগির জন্য ওজন অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
লেখকের মন্তব্য
ফাউমি মুরগির সুস্থতা, দ্রুত বৃদ্ধি ও ডিম উৎপাদন নিশ্চিত করতে সঠিক খাবারের বিকল্প নেই। পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যতালিকা মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং তাদের উৎপাদনশীলতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই খাবার নির্বাচনের সময় শুধু পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
এছাড়া, সঠিক সময়ে মুরগিকে খাবার দেওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা এবং অতিরিক্ত লবণ বা ক্ষতিকর খাবার থেকে দূরে রাখা খুবই জরুরী। যারা বাণিজ্যিকভাবে বা শখের বসে ফাউমি মুরগি পালন করছেন, তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলের এই গাইডলাইন মুরগিগুলোর যত্ন ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা সম্পর্কে মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান।